শনিবার ১৩ জুন ২০২৬
Online Edition

ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’র প্রভাবে খুলনায় বৈরী আবহাওয়া

খুলনা ব্যুরো : বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া ‘দানা’ এখন প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এর প্রভাবে সারাদিন খুলনাসহ উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে নদীতে পানি বাড়ায় বেড়িবাঁধ নিয়ে উপকূলীয় এলাকার মানুষের মধ্যে উৎকণ্ঠা বাড়ছে। বিশেষ করে কয়রা, পাইকগাছা, দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করছেন। বৈরী আবহাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল রিকশা ও ভ্যানচালকসহ নিম্ন আয়ের মানুষ। খুলনা  জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা  গেছে, ঘূর্ণিঝড়  মোকাবিলার জন্য ৬০৪টি সাইক্লোন  শেল্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যাতে পরিস্থিতি অনুযায়ী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার  লোকজন আশ্রয় নিতে পারেন। এসব  শেল্টারে তিন লাখ à§§à§« হাজার ১৮০ জন আশ্রয় নিতে পারবে। এছাড়া তিনটি মুজিব কিল্লায় ৪৩০ মানুষ আশ্রয় ও ৫৬০টি গবাদিপশু রাখা যাবে।

খুলনা আবহাওয়া অধিদফতরের সহকারী আবহাওয়াবিদ  মো. আমিরুল আজাদ বলেন, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার,  মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত  দেখিয়ে  যেতে বলা হয়েছে। ঝড় যাচ্ছে উরিষ্যা-পশ্চিমবঙ্গের দিকে। যার কারণে খুলনায় ঝড় নিয়ে আতঙ্কের কিছু  নেই। শুধু দমকা বাতাস ও বৃষ্টি হবে।

অপরদিকে রেমালের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না উঠতে উপকূলীয় জেলাগুলোতে আতঙ্ক হয়ে এসেছে ঘূর্ণিঝড় দানা। বুধবার দুপুর  থেকে দানা’র প্রভাব শুরু হয়। বঙ্গোবসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত গভীর নি¤œà¦šà¦¾à¦ªà¦Ÿà¦¿ আরও উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ঘূণিঝড় দানা’à§Ÿ পরিণত হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে খুলনাসহ উপকূলীয় এলাকাগুলোতে। আসন্ন ঘূণিঝড় দানা’র ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে খুলনা  জেলা প্রশাসন পর্যাপ্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ৬০৪টি আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়াও প্রস্তুত রয়েছে পাঁচ সহ¯à§à¦°à¦¾à¦§à¦¿à¦•  স্বেচ্ছাসেবকও। আশ্রয়  কেন্দ্রগুলোতে অন্তত à§© লাখ à§§à§« হাজার মানুষ থাকতে পারবে। এ ছাড়া ৩টি মুজিব কিল্লায় ৪৩০ জন মানুষ ও ৫৬০টির মত গবাদি পশু রাখা যাবে। উপকূলীয় উপজেলা কয়রা, দাকোপ ও পাইকগাছায় সিপিবির à§« হাজার ২৮০ জন  স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সূত্রমতে, ঘূর্ণিঝড় দানা ২৪ ই অক্টোবর সন্ধ্যা  থেকে ২৫ অক্টোবর দুপুরের মধ্যে উপকূলের  যে  কোন স্থানে আঘাত আনতে পারে। বাড়তে পারে বৃষ্টির প্রভাবও। বুধবার রাত ১০ টা পর্যন্ত আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য মতে মংলা বন্দরে à§© নং সতর্কতা সংকেত  দেখানো হয়েছে।

খুলনা  জেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসন কর্মকর্তা  মো. আব্দুল করিম বলেন, ঘূর্ণিঝড় দানা’র ক্ষতি  মোকাবেলায়  জেলা প্রশাসনের পক্ষ  থেকে সর্বাত্বক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে ঘূর্ণিঝড়  মোকাবেলায় জরুরি নির্দেশনা  দেয়া হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ নিজ কর্মস্থলে থাকার জন্যও বলা হয়েছে। ইতোমধ্যে উপকূলীয় এলাকায় সতর্কতায় মাইকিং করা শুরু হয়েছে। শুকনো খাবার, ওষুধ, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও নগদ টাকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রস্তুত রয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ,  নৌ বাহিনী,  কোস্টগার্ড, পানি উন্নয়ন  বোর্ড।

এদিকে, ঘূর্ণিঝড় ‘ডানা’ এর প্রভাবে সম্ভাব্য দুর্যোগ বিবেচনায় নিয়ে খুলনা  জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা বুধবার বিকেলে  জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। খুলনার  জেলা প্রশাসক  মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এতে সভাপতিত্ব করেন।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে মোংলায় রাতভর বৃষ্টি ॥ ক্ষয়ক্ষতি রক্ষায় নানা প্রস্তুতি:

মংলা সংবাদদাতা : ঘূর্ণিঝড় ডানা’র প্রভাবে বুধবার রাতভর বৃষ্টি হয়েছে মোংলা উপকূলীয় এলাকায়। বৃহস্পতিবার সকালেও থেমে থেমে বৃষ্টি হয়। তবে বৃষ্টি উপেক্ষা করে কাজ-কর্মে যোগ দিচ্ছে মানুষ স্বাভাবিক অন্য দিনের মতো। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ বুধবার প্রস্তুতিমূলক সভা করেছে। সতর্ক অবস্থায় থেকে বন্দরে অবস্থানরত ৮টি বাণিজ্যিক জাহাজ ও জেটিতে বাণিজ্যিক কার্যকম স্বাভাবিক রেখেছে কর্তৃপক্ষ। তবে বৃষ্টির কারণে ব্যাঘাত ঘটছে পণ্য উঠা-নামার কাজ। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, আবহাওয়া অফিসের সাথে মিল রেখে তাদের নিজস্ব এলার্ট-à§§ জারি করে বুধবার। কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার সাইফুর রহমান ভূঁইয়া জানান, আবহাওয়া অফিস যখন তাদের সিগনাল বাড়াবে তখন মোংলা বন্দর যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তবে বন্দরের নিজস্ব টুইন জাহাজ, পানির বোর্ড ও পাইলট বোর্ডগুলো জেটিতে নিরাপদে রাখা হয়েছে। লাইটারগুলোকে নিরাপদে থেকে চলচল করতে বলা হয়েছে।

মোংলা বন্দর জেটিতে নিরাপদে রাখা হয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর দুইটি যুদ্ধজাহাজ। বুধবার দুপুরে বন্দরের ৯ নম্বর জেটিতে বিএনএস শাপলা ও বিএনএস শৈবাল নামক জাহাজ দুটি জেটিতে ভিড়ে। এ ছাড়া বিএনএস প্রত্যাশা ও বিএনএস স্বাধীনতা নামে আরও দুটি যুদ্ধজাহাজ মোংলা নৌঘাঁটিতে নিরাপদে নোঙর করেছে।

বৃহস্পতিবার সকালে দেখা যায়, মোংলা নদী ও পশুর নদীর পানি স্বাভাবিক রয়েছে। নদীতে লাইটার ও ট্রলার চলাচল স্বাবাভিক রয়েছে।

এদিকে অন্য দিনের মতো বৃহস্পতিবার সকালেও বৃষ্টি অপেক্ষা করে কাজে যোগ দিয়েছে মোংলা ইপিজেড এ কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীরা। তবে কেউ কেউ বৃষ্টিতে ভিজে ট্রলার পারাপার হতে দেখাযায়।

হাতিয়ার সাথে নৌ যোগাযোগ বন্ধ প্রস্তুত ২৪২ আশ্রয় কেন্দ্র : হাতিয়া (নোয়াখালী) সংবাদদাতা: নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সঙ্গে জেলা সদরসহ সারা দেশের নৌ যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। গত বুধবার দুপুর  থেকে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘ডানা’র প্রভাবে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে নৌযান চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিল্টন চাকমা। তিনি বলেন, à§© নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত চলছে। তাই নৌ যোগাযোগ বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মাছ ধরার নৌকাগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান করতে বলা হয়েছে, প্রস্তুত রাখা হয়েছে ২৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র, ৩৮টি মুজিবকেল্লা।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘূর্ণিঝড় 'দানা' মোকাবেলায় হাতিয়া  দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির বিশেষ এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এদিকে দুপুর ১২ টা পরে ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’র প্রভাবে নোয়াখালী  হাতিয়া  সারাদিন গুমোট আবহাওয়া বিরাজ করছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর সবশেষ বিজ্ঞপ্তিতে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৩নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ